Follow Us


শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের নিয়ন্ত্রাণাধীন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের তত্বাবধানে ২০১০ সাল থেকে বাস্তবায়িত হচ্ছে Skills and Training Enhancement Project (STEP) শীর্ষক প্রকল্প। STEP প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের গুণগত মান উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে আর্থ-সামাজিকভাবে অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর নিকট কারিগরি শিক্ষাকে সহজলভ্য করে তোলা ও তাদের জন্য মর্যাদাসম্পন্ন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে বেকারত্ব দূর করা। 

প্রকল্পটির রয়েছে সরকারি-বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের উন্নয়নে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা প্রদান, দরিদ্র শিক্ষার্থীদেরকে বৃত্তি প্রদান, শিক্ষক নিয়োগ ও দেশে-বিদেশে প্রশিক্ষণ প্রদান, সম্পূর্ণ বিনা খরচে সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ প্রদান, কর্মদক্ষতার স্বীকৃতির সনদ প্রদান, ইন্ডাস্ট্রি-ইনস্টিটিউট লিংকেজ বৃদ্ধি ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম। এর পাশাপাশি STEP নানাবিধ সামাজিক ও গণযোগাযোগ মাধ্যমে কারিগরি শিক্ষার প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে আসছে এবং আয়োজন করছে সভা,সেমিনার, ওয়ার্কশপ, জব ফেয়ার, স্কিলস কম্পিটিশন ইত্যাদি। 

স্কিলস কম্পিটিশন আয়োজিত হচ্ছে ২০১৪ সাল থেকে। মূলত: পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং এর শিক্ষার্থীদের মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তি বিকাশের লক্ষ্যে এই প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করা হয়ে থাকে। স্কিলস কম্পিটিশনের অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে শিল্প-সংযোগ প্রতিষ্ঠা করা, কলকারখানাসমূহকে উদ্ভাবনী প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করা, বাজার চাহিদা নিরূপন করা ও শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশের পথ প্রশস্ত করা। 

কারিগরি শিক্ষাঙ্গণের সর্ববৃহৎ ও অনন্য এ প্রতিযোগিতাটি ৩টি পর্বে অনুষ্টিত হয় প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়, আঞ্চলিক পর্যায় এবং জাতীয় পর্যায়। প্রথম পর্ব অর্থাৎ প্রতিষ্ঠান পর্যায়ের প্রতিযোগিতা নির্বাচিত পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটসমূহের স্ব স্ব প্রাঙ্গণে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে একযোগে অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণকারী ইনস্টিটিউটসমূহের প্রত্যেকটি টেকনোলজি বা বিভাগ থেকে একাধিক প্রতিযোগী একক বা দলগতভাবে অংশগ্রহণ করে। প্রত্যেক পলিটেকনিকের অধ্যক্ষ বা প্রশাসনিক প্রধান, স্থানীয় প্রশাসন, শিল্পকারখানা ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত হয় আলাদা আলাদা মূল্যায়ন কমিটি। কমিটিগুলো দেশ, সময় ও বর্তমান বাজারের চাহিদার প্রেক্ষিত বিবেচনায় রেখে মেধা, মনন, উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতার আলোকে প্রতিটি পলিটেকনিক থেকে তিনটি করে সেরা প্রকল্প নির্বাচন করে থাকে। সেগুলো পরবর্তীতে আঞ্চলিক পর্বের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পায়। 

আঞ্চলিক পর্বের প্রতিযোগিতা আয়োজনের সুবিধার্থে সারাদেশকে ১৩টি অঞ্চলে ভাগ করা হয়। প্রত্যেক অঞ্চল থেকে প্রকল্পের আওতায় গ্রান্ট প্রাপ্ত একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান এ প্রতিযোগিতা আয়োজনের দায়িত্ব পালন করে থাকে। আয়োজক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্ব স্ব ভেন্যুতে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় মহা আড়ম্বরে। এ পর্ব থেকে সব অঞ্চল মিলিয়ে সেরা ৫১টি উদ্ভাবনী প্রকল্প চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য নির্বাচিত হয়। 

“স্কিলস কম্পিটিশন” এর চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয় ঢাকায়। এ উপলক্ষে প্রতিবছর একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয় এবং একটি সেমিনারেরও আয়োজন করা হয়। সেই সাথে দিনভর টানটান উত্তেজনার মধ্যে চলে এ পর্বে অংশগ্রহণকারী প্রকল্পসমূহের মূল্যায়ন কার্যক্রম। অবশেষে গোধূলির সোনালী আলোয় মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত উদ্ভাবনের জন্য কারিগরি শিক্ষার সোনার ছেলেদের হাতে তুলে দেন মহামূল্যবান পুরষ্কার আর উপহার সামগ্রী। 

এ পর্যন্ত তিনবার স্কিলস কম্পিটিশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সর্বশেষ Skills Competition 2016 এর চূড়ান্ত পর্বের প্রতিযোগিতায় LS 247 RBT Life Security Robot আবিষ্কার করে চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থীরা প্রথম স্থান অর্জন করে। Water Based Gas Power Plant উদ্ভাবন করে National Science Research and Technology College, Rajshahi দ্বিতীয় স্থান এবং Digital Security System উদ্ভাবনের জন্য Model Institute of Science and Technology, Gazipur এর শিক্ষার্থীবৃন্দ তৃতীয় স্থান লাভ করে। 

একই রকমভাবে Skills Competition  2015 এর চূড়ান্ত পর্বে রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবিত ‘নেবুলাইজার ও সাকশন মেশিন’ শীর্ষক প্রকল্পের জন্য ১ম পুরস্কার লাভ করে। প্রতিযোগিতায় ‘ব্রিকফিল্ড কার্বন ফিল্টার’ শীর্ষক প্রকল্পের জন্য ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা ২য় পুরস্কার এবং ‘রুম সিকিউরিটি কন্ট্রোল সার্কিট’ শীর্ষক প্রকল্পের জন্য বাংলাদেশ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউ, রাজশাহী ৩য় পুরস্কার লাভ করে।

২০১৪ সালে প্রথম বারের মতো অনুষ্ঠিত স্কিলস কম্পিটিশনের চূড়ান্ত পর্বে আহসানউল্লাহ কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিউটের শিক্ষার্থীবৃন্দ তাদের উদ্ভাবিত Potato as bio degradable plastic for eco-friendly environment’ শীর্ষক প্রকল্পের জন্য ১ম পুরস্কার লাভ করে। প্রতিযোগিতায় ‘Reduce Carbon by housing steam’ শীর্ষক প্রকল্পের জন্য ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা ২য় পুরস্কার এবং ‘Home security system’ শীর্ষক প্রকল্পের জন্য ঢাকা মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের মেয়েরা ৩য় পুরস্কার লাভ করে। 

বিগত বছরগুলোর ধারাবাহিকতায় চতুর্থবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে “Skills Competition 2017”। বরাবরের মতো এবারেও থাকছে প্রতিযোগিতার তিনটি পর্ব এবং একই রকম নিয়ম-কানুন। ভিন্নতা শুধু রেজিস্ট্রেশনে। আগ্রহী প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষার্থীদেরকে এ বছর থেকে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে অনলাইনে। সেইসাথে এ প্রতিযোগিতায় যুক্ত হয়েছে নতুন একটি আনুষ্ঠানিকতা। সেটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। 

সৃজনশীল মেধা অন্বেষণের অনন্য এই প্রতিযোগিতা আজ কারিগরি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন কারিগরি শিক্ষার্থীরা তাদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশের সুযোগ পাচ্ছে, অপরদিকে দেশের আপামর জনসাধারণ কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা ও সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে জানতে পারছেন এবং উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। এভাবেই একদিন আমাদের কারিগরি শিক্ষার্থীরা তাদের মেধা, দক্ষতা ও সৃজনশীলতা দিয়ে বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে, আর তাদের দক্ষ হাতেই গড়ে উঠবে “দক্ষ বাংলাদেশ”।